অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজন আটক, সিসিটিভিতে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

কুমিল্লায় নিখোঁজের একদিন পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোটবাড়ী এলাকা থেকে তুহিন নামের ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কোটবাড়ী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। শনিবার সকালে একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমকে এক কিশোরের সঙ্গে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি এবং তার মাথায় ক্যাপ ছিল।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম সামনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয় এক ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শুক্রবার অপ্রতিম বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, ডিনসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি টিম শুক্রবার থেকেই অপ্রতিমকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Nagad

অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার কোটবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।

শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।