কিশোর গ্যাংয়ের শিকড় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে চায় এসআরবি, গ্রেপ্তার সবুজ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু সদস্যদের গ্রেপ্তার নয়, এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ক্ষেত্রে শর্টকাট সমাধান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় পাটালী গ্রুপের ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি এবং আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে আরমানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআরবি-২-এর অধিনায়ক জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং চাপাতি দিয়ে পাটালী গ্রুপের ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত ফরহাদের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২।

Nagad

এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার তিন নম্বর আসামি আরমান মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নায়মুল হাসান বলেন, আরমান বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকলেও ঢাকাতেই অবস্থান করছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় সাব্বির ও সোহেলসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আরমান-শাহরুখ গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গত ১৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

আইনের ফাঁক দিয়ে বারবার বেরিয়ে আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নায়মুল হাসান বলেন, এবার যেন সে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারে, সে বিষয়ে তারা প্রত্যাশা করছেন।

কিশোর গ্যাং নির্মূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করলে গ্রুপগুলো দুর্বল হয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, শর্টকাট সমাধান চাইলে সেটি ভুল হবে। এসব গ্রুপ যেন ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসআরবি-২-এর অধিনায়ক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল কাজ করছে। খুব শিগগির এসব অপরাধী গ্রুপের কার্যক্রমের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে আরও বিস্তৃতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।