মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙচুর-আগুন, চার মামলায় আসামি দুই হাজার

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহন, অক্টোবর ১, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর মামলা, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলা এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ওই মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

Nagad

এরপর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ হয়। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন।

আবারও উচ্ছেদ অভিযান

ঘটনার পর দুপুরের দিকে ডিএনসিসি আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করতে হবে।