এশিয়ান গেমস: শুধু মোস্তাফিজ-নাসুমের ব্যর্থতা নয়, দায় আছে ব্যাটসম্যানদেরও
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের ৬ উইকেটের পরাজয়ের পর আলোচনায় মোস্তাফিজুর রহমান ও নাসুম আহমেদের বোলিং। ১৩ ওভারের ম্যাচে মোস্তাফিজ ২ ওভারে ৪১ এবং নাসুম ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের এই হারের দায় শুধু এই দুই বোলারের নয়; ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাও বড় কারণ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে জাপানের নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজ ও নাসুমের বোলিং ছিল সবচেয়ে খরুচে। মোস্তাফিজ ওভারপ্রতি ২০.৫০ এবং নাসুম ওভারপ্রতি ১১ রান দেন। বিপরীতে শেখ মাহেদি ৩ ওভারে ১৭ রানে ১ উইকেট, রিশাদ হোসেন ২.৩ ওভারে ১২ রানে ১ উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ১ ওভারে ৭ রান দিয়ে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন।
তবে প্রশ্ন হলো, সব দায় কি শুধু মোস্তাফিজ ও নাসুমের?
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দিকে তাকালে উত্তরটা স্পষ্ট। তাওহিদ হৃদয় ছাড়া প্রায় সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ২৫ বলে চার ছক্কা ও দুই বাউন্ডারিতে ৪২ রান করে একাই লড়েছেন হৃদয়। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই ১৩ ওভারে ১১১ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
ওপেনার সাইফ হাসান ১৭ বলে ১৯ এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১১ রান ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। তানজিদ তামিম করেন ৭, অধিনায়ক লিটন দাস ২, পারভেজ হোসেন ইমন ১ এবং রিশাদ হোসেন ২ রান।
ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্রটা আরও স্পষ্ট হয় দলীয় স্কোরে। ৩১ রানে ৩ উইকেট এবং ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে হৃদয় ও মোসাদ্দেক ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করলেও বড় সংগ্রহের ভিত গড়তে পারেননি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের শুরুটাও স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১৬ রানে ২, ৩৮ রানে ৩ এবং ৫৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় তারা। কিন্তু এরপর হাসান নাওয়াজ ও আব্দুল সামাদ ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। হাসান ২২ বলে ২৭ এবং আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই পাকিস্তানকে ৯ বল হাতে রেখে জয় এনে দেয়।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেখানে হৃদয়কে সঙ্গ দিতে পারেননি, পাকিস্তানের দুই ব্যাটার ঠিক সেই কাজটিই করেছেন।
বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন খেলা হয়নি। ম্যাচের আগে পিচও দীর্ঘ সময় কভারে ঢাকা ছিল। ফলে উইকেটে আর্দ্রতা ছিল। এমন কন্ডিশনে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামাটাও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ব্যাটসম্যানরা শুরুতে সতর্কভাবে খেলতে পারেননি।
বোলিংয়েও বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল। পাকিস্তানের হয়ে বাঁহাতি স্লো অর্থোডক্স স্পিনার আরাফাত মিনহাস ৩ ওভারে ২৩ রানে ২ উইকেট এবং সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট নেন। বাংলাদেশের বাঁহাতি বোলার মোস্তাফিজ, নাসুম ও শরিফুল পাকিস্তানের ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে সেই নিয়ন্ত্রণ দেখাতে পারেননি।
ফলে এই পরাজয়ের দায় শুধু মোস্তাফিজ-নাসুমের ঘাড়ে চাপানো কঠিন। তাওহিদ হৃদয় ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেননি, আবার বোলারদের মধ্যেও সবাই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। টস বা একজন-দুজনের ব্যর্থতার বদলে পুরো দলের সম্মিলিত ব্যর্থতাই বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙার বড় কারণ।

