বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহন, অক্টোবর ৯, ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের কার্যালয় থেকে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ আইন, ২০২৩-এর ২০(২)(বি) ধারা এবং টেলিযোগাযোগ পরিষেবা সাময়িক স্থগিতকরণ বিধিমালা, ২০২৪-এর ৩(১) বিধি অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশ অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকার মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব, বারখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোদি রোড ও জাংপুরার কিছু অংশ বা পুরো এলাকা।

৫৭ মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ, বাতিল ৬০টির বেশি ট্রেন

এর আগে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীর গেটসহ দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

Nagad

এ ছাড়া অন্য রাজ্য থেকে ছেড়ে এসে শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

এসব বিধিনিষেধের কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রেন ও মেট্রো চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

শুক্রবার দিল্লি মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত নয়।

আদালত বলেন, তরুণ ও বয়স্ক—সব বয়সের মানুষ গণপরিবহণ ব্যবহার করেন। নিত্যযাত্রীদেরও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং পুরো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে।

আদালত আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবকিছু স্থবির করে দিয়ে মানুষকে পরিবহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে।

জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, বিক্ষোভ করার অধিকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব।

আগেও বন্ধ হয়েছিল ইন্টারনেট

এর আগে জুলাই মাসে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ও কয়েক দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আন্দোলনের খবর সংগ্রহকারী ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করতে সমস্যা হয়েছিল। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব ঘটে।

আগেরবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল দেড় কিলোমিটার এলাকা। এবার তা বাড়িয়ে চার কিলোমিটার করা হয়েছে।