শেখ হাসিনা আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা বিশ্বাস করি না: তথ্য উপদেষ্টা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহন, নভম্বর ৩, ২০২৬

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এসব অর্থ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। শেখ হাসিনা ভবিষ্যতেও সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্তমানে স্বাভাবিক রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর অবস্থায় নেই। তবে দলটির নেতাকর্মীদের কাছে বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে। সাম্প্রতিক পোশাকশিল্পের সহিংসতার সঙ্গে এ ধরনের তৎপরতার যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

তবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের জন্য ডিসেম্বরে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আসুক, ডিসেম্বর শেষ হোক। এরপর আমরা নিশ্চয়ই আবার এ কথা বলবো।’

শেখ হাসিনা সত্যিই ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে নিজের আগের মূল্যায়ন ভুল ছিল বলে স্বীকার করবেন এবং ক্ষমা চাইবেন বলেও জানান তিনি।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারকে এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

Nagad

তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে তিনি যদি ওই কথা বলতে পারেন, তাহলে এখন আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি না।’ তবে সরকারকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানান তিনি।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার তার দেশে ফেরার পথ বন্ধ করতে চায় না। বরং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘উনি নিজে আসুন অথবা আমরা উনাকে ধরে নিয়ে আসি, আমাদের চাওয়া তো একই।’

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা পরিস্থিতি তৈরি হলে বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে আগাম সব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে রাখা হয়নি।

বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযোগ আনা হতো, বর্তমান সরকারের বক্তব্যকে একইভাবে দেখা ঠিক হবে না। একটি স্বৈরাচারী সরকার ও একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণের মধ্যে পার্থক্য থাকবে।

সরকারের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আগের মতো বলপ্রয়োগ নয়

পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশকে এমনভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় আন্দোলন দমনে যেভাবে শক্তি প্রয়োগ করা হতো, বর্তমান সরকার সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায় না।

তিনি বলেন, পুলিশের বলপ্রয়োগের আইনি ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নও আসতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই আইনের বিধান, পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নীতি অনুসরণ করতে হবে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সময় বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির কারণে আন্দোলনের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি তাদের বোঝানো সম্ভব হলে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন। তখন অন্য কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে আন্দোলনকে ব্যবহার করে সহিংসতা চালানো কঠিন হবে।