গার্মেন্টস বন্ধ, কর্মহীনতা বাড়ছে-অর্থনীতির ভাঙচুর নিয়ে রিজভীর হুঁশিয়ারি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহন, জুলই ১১, ২০২৫

দেশের অর্থনীতির চরম করুণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন,‘এটা শুধু মুখের কথা নয়—সামনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় কি না, তা নিয়ে জনগণের মনে এখন আশঙ্কা দানা বাঁধছে। যদি আমরা দুর্ভিক্ষের আলামত দেখতে পাই, তাহলে জনগণ আমাদের ছেড়ে দেবে না।’

শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক দুঃস্থদের মাঝে জায়নামাজ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের রোগমুক্তি কামনা করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘আমরা বৃহত্তর আদর্শের জন্য লড়াই করছি-মানবিকতা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের জন্য। গণতন্ত্র ছাড়া এসব সম্ভব নয়। জনগণের মালিকানা ফিরে পেতে আমাদের আন্দোলন চলবে।’

তিনি বলেন, জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকলে প্রতিটি পদে পদে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সেই জবাবদিহিতা এখন নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও আমরা মনে করি জনসমর্থিত। কারণ সমস্ত রাজনৈতিক দল শুধু আওয়ামী লীগ আর তাদের কয়েকটি দোসর ছাড়া সবাই এই সরকারকে সমর্থন করেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমরা সবাই সমর্থন করে যাচ্ছি। কিন্তু এটাও তো ঠিক দুর্ভিক্ষের আলামত যদি আমরা দেখতে পাই, শুনতে পাই, তাহলে তো জনগণ আমাদের ছেড়ে দেবে না।

রিজভী বলেন, যে দোসরা ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছে তাদের সঙ্গে নামে মাত্র কিছু প্রতিষ্ঠান একই কাজ করেছে। সরকার ইচ্ছা করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে পারে। গার্মেন্টসগুলো যাতে বন্ধ না হয় সরকার এটাকে নানাভাবে টেকওভার করতে পারে। দোসররা থেকে থাকলে তাদের বিচার করুন। শ্রমিকদের কলকারখানা যেন বন্ধ না হয়। কারণ, অর্থনীতির কঠিন করুণ অবস্থা। এটা শুধু মুখের কথা নয় সামনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় কিনা এইটা এখন মানুষের মনে মনে। আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে এটা ঠিক কিন্তু পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না করলে জনগণের কাছে কেউ-ই রেহাই পাবেন না।

সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে রিজভী বলেন, ‘আমরা সংস্কারবিরোধী নই। বিএনপির ৩১ দফার মধ্যেই সংস্কারের নানা দিক প্রতিফলিত হয়েছে। তবে তা জনগণের স্বার্থে ও দেশের সার্বিক কল্যাণে হওয়া চাই।’

Nagad

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম, মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেন প্রমুখ।