সেনা-পুলিশ পাহারায় গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২৫

গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় জেলা শহর ত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার পর গোপালগঞ্জ ছেড়ে যান তারা। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৫ থেকে ১৬টি গাড়ির বিশাল বহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন। শহর ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সরাসরি নিরাপত্তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এর আগে দুপুরে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজসংলগ্ন লঞ্চঘাট এলাকায় সমাবেশ শেষে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হলে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার মাধ্যমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কিন্তু উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়লে শহরের পৌরপার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর করা হয় এনসিপি নেতাদের গাড়ি, পুড়িয়ে দেওয়া হয় রাস্তার চেয়ার ও মঞ্চ।

সংঘর্ষের পর গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং অতিরিক্ত চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ঘটনার সময় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করা হয়।

একপর্যায়ে এনসিপির নেতারা গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।

Nagad

এর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে হামলার প্রথম দফা ঘটে। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচি ছিল জুলাই মাসব্যাপী ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’-এর অংশ। এর মাধ্যমে দলটি দেশের বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে।