জিয়াউর রহমান হত্যায় মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহন, জুলই ২০, ২০২৬

জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মেজর মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় আশরাফ হলে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার এবং বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান বিচার সামরিক আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট ফাইন্ডিংস ছিল। দীর্ঘ সময় ছদ্মনামে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমান সেনা আইনেই (মিলিটারি অ্যাক্ট) বিচারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠনের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া আইনানুগভাবে সম্পন্ন হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে সিভিল ল’ ও মার্শাল ল’— দুই ভিন্ন আইনে আলাদাভাবে বিচার বা ট্রায়াল করার আইনি সুযোগ নেই। তাই সেনা আইনেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে ও দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী ১০৮ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব আকারে রয়েছে, চূড়ান্ত হয়নি। একইসঙ্গে বর্ডার মাইন বা ল্যান্ডমাইনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে অত্যাধুনিক ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে।

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিরতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী যেমন— আরএসও ও আরসা’র তীব্র অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত চলছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বর্ডার এই ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝে এক ধরনের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, ওপার থেকে ছিটকে আসা গোলাগুলি ও মাদকের অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জারি রেখেছে। ভারতের সঙ্গে সীমানা ব্যবস্থাপনার ধরন ও মিয়ানমার সীমান্তের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধায় মিয়ানমার সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অভিযোগ নাকচ করে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানান, অবৈধভাবে পুশ-ইন করার কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সতর্ক অবস্থানে আমরা প্রতিটি পুশ-ইন সফলভাবে প্রতিহত করেছি।

Nagad

মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা এমন প্রচারণা চালাতে পারে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা করে থাকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যদি বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতির স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিধি মাতাবেক প্রেরণ করা হয়, তবে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) পূর্বক ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।

এসময় বিজিবি’র জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে নার্স ও চিকিৎসক নিয়োগসহ বিজিবি’র বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।