গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ৪, রাত ৮টা থেকে কারফিউ জারি
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস।
তিনি জানান, নিহতদের দেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অনেকে, তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করেছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, আজ রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ কার্যকর থাকবে।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশের মঞ্চে হামলা চালায় বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
পৌরপার্কে থাকা সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার ও মাইক ভাঙচুর করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মাদারীপুরগামী এনসিপির গাড়িবহর শহর ছাড়ার সময় লঞ্চঘাট এলাকায় তাদের ওপর ফের হামলা হয়। শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।
হামলার সময় এনসিপির শীর্ষ নেতারা গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় বিকেল ৫টার পর তারা শহর ত্যাগ করেন। ১৫–১৬টি গাড়ির বহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন।
হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করা হয়, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। শহরজুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা বিকাল ৫টা পরে গোপালগঞ্জ ছেড়ে বের হয়ে যান।

