সিআরপিসি সংশোধনে নতুন নির্দেশনা: গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে পরিবারকে
কাউকে গ্রেপ্তার করার পর সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবার, বন্ধু বা আইনজীবীকে জানাতে হবে। এমন নির্দেশনা রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া যাবে না। কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কে গ্রেপ্তার করেছে, গ্রেপ্তারের পর পরিবারের কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে—এই সব তথ্য লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের সদর দপ্তরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা রাখতে হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে আরও জানানো হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সংশোধন এনে বলা হয়েছে, পুলিশের সামনে কেউ অপরাধ করলে বা পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।
তবে সংশোধিত এই আইন অমান্য করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা দেননি আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির শরীরে যদি কোনো আঘাত থাকে বা সে যদি বলে অসুস্থ, তাকে অতিদ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে। আমরা বলেছি প্রত্যেকটা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট থাকতে হবে।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আইনে বলেছি, যে সংস্থাই গ্রেপ্তার করুক, তাদের কনসার্ন অফিসে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিকে কেন, কোনো আইনে গ্রেপ্তার করেছে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, সমস্ত কিছু থাকতে হবে। এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে দিতে হবে।
এ ছাড়া নিয়মিতভাবে প্রত্যেকটি থানায়, জেলা পুলিশের কার্যালয় গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের তালিকা থাকতে হবে। কত তারিখে কোনো আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই তালিকাও থাকতে হবে।
এ সময় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কাউকে গ্রেপ্তার করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে জানাতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও বলবৎ রয়েছে।

