অপরাধীদের বিচারে আমরা বদ্ধপরিকর: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্, জুলই ৩০, ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সংস্কারের পাশাপাশি জুলাইয়ে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিচারে আনার ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর। ন্যায়বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়—এটি এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি, যেখানে রাষ্ট্রক্ষমতা আর কখনো জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না।

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকায় জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকীতে আমরা একত্রিত হয়েছি একটি গভীর তাৎপর্যময় ঘটনার স্মরণে। ওই সময় হাজারো নারী-পুরুষ, যাদের বেশিরভাগই তরুণ, অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশের মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধার করেছিলেন। তাদের সাহস শুধু জাতির জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির পক্ষেই উচ্চারিত হয়েছিল।

তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, রোহিঙ্গা সংকট এবং গত বছরের জুলাই-আগস্টের অন্ধকার সময়েও জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে ছিল।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাতে তিনি বলেন, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারায়। এই সহিংসতা ছিল পূর্বপরিকল্পিত, সংগঠিত এবং তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পরিচালিত। এসব ঘটনা মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবেও বিবেচনার দাবি রাখে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই অনুসন্ধানকে সমর্থন করেছে বিবিসি, আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতিবেদনগুলো। জাতিসংঘ কেবল ঘটনার প্রামাণ্য নথিই প্রস্তুত করেনি, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে বিস্তৃত সুপারিশও দিয়েছে।

Nagad

মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, দণ্ডবিধি সংশোধন, গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগদান এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সমঝোতার আওতায় ঢাকায় একটি সহায়তাকারী মিশন গঠিত হচ্ছে, যা সরকার ও সুশীল সমাজকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও মানবাধিকার হাইকমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরু থেকেই জাতিসংঘ আমাদের রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশীদার। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হবে এবং মানুষ শান্তি, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।

তিনি বলেন, গত বছরের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। তারা একটি নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন, যেখানে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণ হবে আমাদের অঙ্গীকার।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট; এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে, মর্যাদায়, স্বাধীনতায় ও গর্বের সঙ্গে বসবাস করতে পারে।