দেশ গড়তে আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান
দেশ গঠনের স্বার্থে আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা যাতে মাথাচাড়া না দিয়ে উঠতে পারে, সেজন্য বিশেষ করে নারী সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে মহিলা দলের এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একজন মায়ের চোখে বাংলাদেশ যেমন হওয়া উচিত, তেমন একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আগামী নির্বাচন শুধু রাজনীতি নয়, রাষ্ট্র কাঠামো রক্ষার প্রশ্নও হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে দেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা এখনও অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে। বিএনপির পরিকল্পনায় নারীদের শিক্ষা ও স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান জানান, বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রথম পর্যায়ে ৫০ লাখ প্রান্তিক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করবে, যার মাধ্যমে তারা সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সহায়তা সরাসরি পাবেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বর্তমানে শুধু প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে স্বাধীনভাবে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে এ ক্ষমতার বাইরে রাষ্ট্রপতির আরও কিছু দায়িত্ব থাকা উচিত বলে বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনার পর তা প্রকাশ করা হবে।
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সংসদে একটি মধ্যবর্তী বিধান অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কমিশন এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত দেবে।’ এছাড়া, মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলোচনাও এখনো চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চিন্তা করছি বিদ্যমান মৌলিক অধিকারের সঙ্গে আধুনিক সময়ের আলোকে কিছু অধিকার যেমন ইন্টারনেটের অধিকার যুক্ত করা যায় কি না। তবে মৌলিক অধিকার একবার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কারণ সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদে থাকা অধিকারগুলো সেল্ফ এনফোর্সেবল এবং ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকরা তা প্রয়োগে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। তাই অত্যন্ত সচেতনভাবে নতুন কোনো অধিকার সংযোজন করতে হবে।
‘আমরা আগেই জানিয়েছি, পঞ্চম সংশোধনের মাধ্যমে গৃহীত রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত বাক্যটি যুক্ত করার ক্ষেত্রে আমরা একমত। এতে বলা হয়েছে—সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা। তবে কিছু দলের আপত্তি থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে আসবে।’

