সৌদিতে হামলা হলে মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ সতর্কবার্তা দেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে কিংবা কোনো ধরনের উসকানিবিহীন হামলা হলে চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে খাজা আসিফ বলেন, এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। এটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার অঙ্গীকার পালন করবে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরও হামলার আওতায় পড়েছে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তান এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর এটি সরাসরি আঘাত।

‘একজনের ওপর হামলা মানে তিনজনের ওপর হামলা’

Nagad

খাজা আসিফ বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন দেশের কোনো একটি আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে। তবে এটি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়। তিন দেশ নিজেদের উদ্যোগে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য এই চুক্তি করেনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমবে। তবে হুথিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে এর পরিণতি হতে পারে।

হুথিরা যদি সংঘাতকে সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যায়, তাহলে চুক্তির আগ্রাসন প্রতিরোধের ধারাগুলো কার্যকর হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

যুদ্ধ নয়, প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা। কোনো হামলা হলে একই ধরনের পাল্টা হামলা চালাতেই হবে—চুক্তির অর্থ এমন নয়।

তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা সম্ভাব্য হামলাকারীদের জন্য একটি বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে সৌদি আরবকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিরোধে জড়িয়ে পড়া থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান খাজা আসিফ।

আগেও সৌদির পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান

২০১৪ সালের পরিস্থিতির কথাও স্মরণ করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সে সময় ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবে হামলা হলেও পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বর্তমানের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ছিল না। এরপরও সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান।

সৌদি আরবের পবিত্র মর্যাদা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

শান্তির পথ এখনো খোলা

আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হলেও শান্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন খাজা আসিফ। তিনি বলেন, শান্তির পথ বের হবে এবং আলোচনার দরজা এখনো বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে।

তার মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে পুরো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ চলমান সংঘাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

হুথিদের হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ

সৌদি আরবের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা নতুন নয়। এর আগে ২৩ জুলাই সংগঠনটি দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছিল। হুথিরা এটিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে বর্ণনা করে।

হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হুথিদের হামলার হুমকির পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরব, দেশটির নাগরিক কিংবা জাতীয় সম্পদের ওপর হামলার চেষ্টা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে।