ঘোষণাপত্রে ইসলামপন্থিদের অবদান উপেক্ষিত, সংশোধনের আহ্বান পরওয়ারের

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহন, গাস্ট ৭, ২০২৫

জুলাই ঘোষণাপত্রে ইসলামপন্থিদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। সভার শিরোনাম ছিল—“২০০৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ছাত্র-শিক্ষক-জনতার অবদান ও করণীয়”।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ঘোষণাপত্রে একটি নির্দিষ্ট দলের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। ইসলামপন্থিদের ঐতিহাসিক অবদান উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার তৈরি ঘোষণাপত্রটি অসম্পূর্ণ। এটি সংশোধন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিচারক হত্যা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং শিক্ষক সমাজের আত্মত্যাগ—এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ঘোষণা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

গোলাম পরওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনের আয়োজন হলে নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে জাতির চেতনায় স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তবে শত শত মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আশা যদি পূরণ না হয়, তবে তা হবে গভীর ব্যর্থতা।

Nagad

‘জুলাই সনদের’ আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।

আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদ লুকিয়ে আছে। যারা দ্বিতীয় স্বাধীনতার সূচনা করেছিলেন—শ্রমিক, মজুর, শিক্ষক—তাদের কেউই ঘোষণাপত্রে স্থান পাননি। এটি দেশের সঙ্গে প্রতারণা।

আলোচনার সারাংশ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. এম কোরবান আলী।