হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন শমী কায়সার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় দায়েরকৃত এক হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়েছেন ই-কর্মাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাবেক সভাপতি ও অভিনেত্রী শমী কায়সার। সোমবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ থেকে তিনি জামিন পান।
গত ৮ এপ্রিল রাতের দিকে রাজধানী উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন ৯ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম আদালত শমী কায়সারের বিরুদ্ধে টঙ্গী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান ইউসুফকে হত্যাচেষ্টার মামলার গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় টঙ্গী সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান ইউসুফ আন্দোলনে অংশ নেন। ওইদিন উত্তরা পূর্ব থানাধীন আজমপুর এলাকায় মিছিল চলাকালে একদল আসামি গুলি ছুড়ে জুবায়েরের বাম কাঁধে আঘাত করে। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।
এরপর ২২ আগস্ট জুবায়ের ১১ জনকে এজাহারনামী এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন, যাদের মধ্যে শমী কায়সার একজন সন্দিগ্ধ আসামি।
এর আগে ১৮ জুলাই ইশতিয়াক মাহমুদ নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শমী কায়সারকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে ৯ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন।
৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ১৪ আগস্ট শমী কায়সার ই-ক্যাব সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শমী কায়সার শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে এবং তাঁর মা পান্না কায়সার, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য। পরিবারগতভাবে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে সক্রিয় শমী কায়সার কয়েক বছর ধরে দলের মধ্যে প্রভাবশালী ছিলেন। সম্প্রতি কোটাবিরোধী আন্দোলনে বিটিভি ভবনে শিল্পীদের নিয়ে প্রতিবাদ করার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া ‘আলো আসবেই’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও তার কর্মকাণ্ড বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
Ask ChatGPT

