ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, পরবর্তী সরকারের কোনো পদে থাকবেন না: ড. ইউনূস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন-পরবর্তী সরকারে কোনো পদে তিনি থাকবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারাট নিউজ-এ লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা, যেখানে সব দলের জন্য সমান সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও আমাদের অঙ্গীকার।
ড. ইউনূস স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর ৮ আগস্ট ২০২৪ তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।
তিনি লেখেন, সরকারি চাকরিতে ন্যায্যতার দাবির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আন্দোলন রূপ নেয় বিশ্বের প্রথম জেনারেশন জেড বিপ্লবে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের স্বীকৃতি হিসেবে দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশকে ২০২৪ সালে “কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার” ঘোষণা করে।
ইউনূস জানান, ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশ ছিল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, বহু মানুষ আটক ছিল নির্যাতনকেন্দ্রে। ধাপে ধাপে অর্থনীতি পুনর্গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কাজ শুরু হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পাশাপাশি নতুন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরতন্ত্র মাথাচাড়া দিতে না পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য শুধু নির্বাচন নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে বলে তিনি জানান।
ড. ইউনূসের সাফ কথা-ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। এরপর আমি রাষ্ট্রের কোনো নির্বাচিত বা নিয়োগপ্রাপ্ত পদে থাকবো না।

