সাংবাদিকতা: ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অপরিহার্য পেশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৩, ২০২৫

সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, সমাজকে সচেতন ও সঠিক তথ্য জানানো দায়িত্বপূর্ণ কাজ। তবে এই পেশার গৌরব যেমন আছে, তেমনি রয়েছে অগণিত ঝুঁকি। সত্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রায়ই নানা ধরনের চাপ, হুমকি এমনকি জীবনসংকটের মুখে পড়তে হয়।

সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাংবাদিকতার ঝুঁকির সবচেয়ে বড় দিক হলো সত্য প্রকাশ করা। সমাজে দুর্নীতি, অপরাধ, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন হন। রাজনৈতিক চাপ, আইনি হয়রানি, মানহানি মামলা কিংবা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিধিনিষেধ সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া সংঘাত, যুদ্ধক্ষেত্র, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সন্ত্রাসী হামলার মতো পরিস্থিতি কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের ঝুঁকিও তৈরি হয়। অনেক সময় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বা সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেন।

সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুজ্জামান লিমন সাংবাদিকতা নিয়ে ফেসবুকে লিখেন- পৃথিবীতে যত পেশা আছে তার মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হলো সাংবাদিকতা। সংবাদ সংগ্রহের জন্য একজন সাংবাদিককে অনেক সময় অজানা-অচেনা জায়গায় যেতে হয়, এমনকি যুদ্ধক্ষেত্র, সংঘর্ষ এলাকা কিংবা দুর্যোগকবলিত অঞ্চলেও পা রাখতে হয়। এতে জীবন ঝুঁকি তো থাকেই, পাশাপাশি মানসিক চাপ ও পেশাগত অনিশ্চয়তাও তাদের নিত্যসঙ্গী।

এছাড়াও-প্রাণ হারানোর ভয়, চাকরি হারানোর ভয়, নানা ধরনের ভয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি লিখেন, তবুও থেমে নেই সাংবাদিকরা। সব ভয়-আশঙ্কার মধ্যেও সাংবাদিকরা কলম আর ক্যামেরা হাতে তুলে নেন সত্য প্রকাশের জন্য। সমাজের আয়না হিসেবে তারা তুলে ধরেন দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের কথা। তাই ঝুঁকি সত্ত্বেও সাংবাদিকতা আজও বিশ্বব্যাপী অন্যতম সম্মানজনক এবং প্রয়োজনীয় পেশা।

আরেক সিনিয়র সাংবাদকি বলেন, সাংবাদিকতার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক অনিশ্চয়তা। অনেক প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত বেতন বা সুযোগ-সুবিধা নেই। কর্মপরিবেশ অনিশ্চিত হওয়ায় তরুণদের মধ্যে এই পেশা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হচ্ছে।

Nagad

আগ্রহ বাড়ছে নাকি কমছে?

প্রশ্ন আসে-এত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকতায় কি আগ্রহ কমে যাচ্ছে? এর উত্তর সরল নয়।

প্রচলিত গণমাধ্যমে আগ্রহ কিছুটা কমছে। সংবাদপত্র বা টেলিভিশনভিত্তিক সাংবাদিকতায় নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক কম এগোচ্ছে, কারণ সেখানে চাকরির সুযোগ সীমিত এবং স্থিতিশীলতা কম। কিন্তু অন্যদিকে ডিজিটাল সাংবাদিকতায় আগ্রহ বাড়ছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইউটিউব, ব্লগ, পডকাস্ট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক সাংবাদিকতায় তরুণরা ক্রমেই বেশি যুক্ত হচ্ছেন। নিজের মত প্রকাশ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য অনলাইন হয়ে উঠছে নতুন প্ল্যাটফর্ম। ফলে বলা যায়, সাংবাদিকতায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে না; বরং এর ধরন পরিবর্তন হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সাংবাদিকতা একটি অপরিহার্য পেশা। সমাজকে সঠিক তথ্য জানানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের বিকল্প নেই। তরুণদের জন্য এই পেশা যতটা চ্যালেঞ্জিং, ততটাই সম্ভাবনাময়। তবে পেশার নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকতায় আগ্রহ আরও বহুগুণে বাড়বে।