৪৪৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সায়মাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করছে দুদক
প্রতিবন্ধীদের সহায়তার নামে ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ খুলে ৪৪৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ৯৩০ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য জানান।
অনুমোদনকৃত মামলার আসামিরা হলেন- সূচনা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ট্রাস্টি ও চেয়ারপারসন প্রফেসর ডা. মাজহারুল মান্নান, ট্রাস্টি ও সাবেক ক্রীড়া মন্ত্রী মো. নাজমুল হাসান পাপন, ট্রাস্টি সায়ফুল্লাহ আব্দুল্লা সোলেনখী, সূচনা ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার মো. শামসুজ্জামান, ট্রাস্টি জ্যান বারী রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রাণ গোপাল দত্ত, এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য প্রফেসর রুহুল হক, শিরিন জামান মুনির, এম এস মেহরাজ জাহান ও সদস্য ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া হামিদ রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান ইন্তেকাবুল হামিদ, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান ওরফে সালমান এফ রহমান, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আজিজ খান, সাবেক এমপি এ কে এম রহমাতুল্লাহ, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দীন হাসান রশিদ, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও বিল ট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান এনায়েতুর রহমানকেও মামলার আসামি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মামলায় এনবিআরের যারা আসামি হচ্ছেন তারা হলেন- সাবেক মুখ্যসচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন) মীর মুস্তাক আলী, সাবেক সদস্য (ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেস) চৌধুরী আমির হোসেন, সাবেক সদস্য (কর নীতি) পারভেজ ইকবাল, সাবেক সদস্য (শুল্ক নীতি) মো. ফরিদ উদ্দিন, সাবেক সদস্য (শুল্ক নিরীক্ষা) মো. ফিরোজ শাহ আলম, সাবেক সদস্য (মূসক নীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক সদস্য (লিগ্যাল) ডা. মাহবুবুর রহমান, সাবেক সদস্য (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা) মো. লোকমান চৌধুরী, সাবেক সদস্য (মূসক) মো. রেজাউল হাসান, সাবেক সদস্য (কর জরিপ ও পরিদর্শন) মো. জিয়া উদ্দিন মাহমুদ, সাবেক সদস্য (কর প্রশাসন) আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক সদস্য (শুল্ক রপ্তানি ও বন্ড) এ এফ এম শাহরিয়ার মোল্লা ওরফে আবু ফয়সাল মো. শাহরিয়ার মোল্লা, সাবেক সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট শাখা) সুলতান মো. ইকবাল, সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) তন্দ্রা সিকদার এবং সাবেক সদস্য (কর আপিল ও অব্যাহতি) কালীপদ হালদার।
দুদকের অভিযোগ
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসামিরা ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি নামসর্বস্ব ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন। তারা আয়কর আইনের অপব্যবহার করে কর মওকুফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেন, যার মাধ্যমে ৪৪৭ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯৩ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়াও, ২০১৫-১৬ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান ৯৯ লাখ ৪ হাজার ৫৩১ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছে। ভুয়া কর জমার রেকর্ডপত্র তৈরি করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, আসামিরা বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অনৈতিক পারিতোষিক গ্রহণ করেছেন। এই অর্থ তারা দলীয় বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। ১৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৯৩০ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ টাকার লেনদেন করে তারা অর্থ পাচার (মানিলন্ডারিং) সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

