ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, উৎসবের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৯:৫১ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। টিএসসি ও বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শতশত শিক্ষার্থী হাসিমুখে ভোট দিচ্ছেন।

ভোট দিয়ে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন তাদের আনন্দ ও প্রত্যাশার কথা। লায়লা রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আজকের দিনটা আমাদের জন্য উৎসবের দিন। এত বড় একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে সত্যিই দারুণ লাগছে।”

আরেক শিক্ষার্থী সামিরা বলেন, “ভোটের লাইন লম্বা হলেও আনন্দের সঙ্গে অপেক্ষা করেছি। কারণ এটি আমাদের অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের মুহূর্ত।”

ভোটকেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে আলোচনা করছেন—কারা নেতৃত্বে আসতে পারে এবং আগামী দিনের ডাকসু কেমন হবে। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করছেন।

এবারের নির্বাচনে ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে একজন এবং এজিএস পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোট দেবেন মোট ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। বিকেল ৪টার মধ্যে লাইনে থাকা ভোটাররা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Nagad

ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার ছিল প্রচারণার শেষ দিন। সেদিন সারাদিন ক্যাম্পাসজুড়ে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি, লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণায় মুখর ছিল টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন, অনুষদ ভবন ও আবাসিক হলগুলো।

শিক্ষার্থীদের আশা, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ও কার্যকর নেতৃত্ব উঠে আসবে, যারা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করবে।