রাবিতে পোষ্য কোটা স্থগিত, অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫

সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সিন্ডিকেট সভা শেষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেন, পোষ্য কোটা নিয়ে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে—একটি অভ্যন্তরীণ পাঁচ সদস্যের কমিটি এবং একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি।

তিনি আরও জানান, পোষ্য কোটা নিয়ে সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে—পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি রাকসু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা
পোষ্য কোটা স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। তবে রাকসু নির্বাচন কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান তারা।

তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যে অশোভন ও লাঞ্ছনাকর আচরণ করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক একাডেমিক সভায় পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা এবং কিছু শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন।

Nagad

শনিবার আন্দোলন আরও উত্তাল রূপ নেয়। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে, উপ-উপাচার্যের গাড়ি আটকে দেয় এবং বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত পৌনে ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব পোষ্য কোটার ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এরপর আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে এবং শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যায়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পোষ্য কোটা বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে শিক্ষক ও কর্মচারীরা এটি পুনর্বহালের দাবিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁরা প্রশাসনকে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন।