শাহবাগে পুলিশের জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহন, নভম্বর ৮, ২০২৫

তিন দফা দাবি আদায়ে শাহবাগে প্রাথমিক শিক্ষকদের কলম বিসর্জন কর্মসূচি ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগমুখী পদযাত্রায় নামলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আমরা কলম সমর্পণ কর্মসূচি করতে শাহবাগে যাচ্ছিলাম। শাহবাগ মোড়ে যাওয়ার আগেই ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে অবস্থান নিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছিলাম, কিন্তু হঠাৎ পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন শিক্ষিকাসহ অনেকে আহত হন।

এর আগে দুপুরের পর শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে শাহবাগ পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেশ কিছুদিন ধরে বেতন কাঠামো ও পদোন্নতি সংক্রান্ত তিন দফা দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবিগুলো হলো- সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান, এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

ঘটনার পর শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম এবং ১৩তম থেকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এতে সহকারী শিক্ষকরা বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

Nagad

অন্যদিকে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে। তাদের দাবি মানা না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২০ জন শিক্ষক আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে এসেছেন। অনেকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। কিছু শিক্ষক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।