৮৩২ ভরি স্বর্ণ শেখ হাসিনার একার নয়: দুদক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৬ পূর্বাহ্, নভম্বর ২৭, ২০২৫

সংগৃহীত ছবি

অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকার খুলে উদ্ধার হওয়া ৮৩২ ভরি (৯,৭০৭.১৬ গ্রাম) সোনা কেবল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়-এটি তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সোনাগুলো শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, এবং পরিবারের আরও সদস্যদের নামে লকারে জমা ছিল। উদ্ধারকৃত সোনার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণালংকার, একটি সোনার নৌকা ও সোনার হরিণ।

দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বুধবার সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এই সোনা বৈধ না অবৈধ—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লকার খোলার প্রক্রিয়া
দুদক জানায়, শেখ হাসিনা ২০০৭ সালের সম্পদ বিবরণীতে পূবালী ব্যাংকে একটি ও অগ্রণী ব্যাংকে দুটি লকার থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে আবেদন করেন। আদালত একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা বিশেষজ্ঞ, এনবিআরের কর গোয়েন্দা, সিআইসি কর্মকর্তসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে তিনটি লকার খোলার নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার লকারগুলো খোলা হয় এবং তালিকাভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের জিম্মায় রাখা হয়।

দুদকের দেওয়া তথ্যে বলা হয়-অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখার একটি লকার থেকে ৫,৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। একই ব্যাংকে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নামে থাকা আরেকটি লকার থেকে ৪,৭৮৩.৫৬ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়। পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় থাকা লকারটি খুলে পাওয়া যায় একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ।

লকারে থাকা চিরকুটের তথ্য অনুযায়ী, সোনাগুলো শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, বোন শেখ রেহানা, এবং তাঁর ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি-এমন ধারণা করছে দুদক।

Nagad

দুদক বলছে, উদ্ধার হওয়া সোনার উৎস, বৈধতা এবং মালিকানা এখন তদন্তাধীন।