গুম প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান: গেজেট প্রকাশ করল সরকার

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫৮ পূর্বাহ্, december ২, ২০২৫

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এতে গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুমের নির্দেশদাতা বা অনুমতিদানকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও একই সাজার আওতায় আসবেন।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করে। এর আগে গত ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অধ্যাদেশে অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এই আইনের অধীন অপরাধ জামিনঅযোগ্য ও আপসঅযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি গ্রেফতার, আটক বা স্বাধীনতা হরণের পর সেটি অস্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগী আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন—তাহলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। এতে দায়ী ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজার বিধান রয়েছে।

গুমের ফলে মৃত্যু হলে বা পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া না গেলে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

অধ্যাদেশে গুমের প্রমাণ নষ্ট করা বা গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

Nagad

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডাররা যদি আদেশ, অনুমতি, সম্মতি বা প্ররোচনার মাধ্যমে গুমে সংশ্লিষ্ট থাকেন, কিংবা অধস্তনদের তদারকিতে অবহেলা করেন—তাহলেও তারা মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি পাবেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকলেও অনুপস্থিতিতেই তার বিচার সম্পন্ন করা যাবে। গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের বিষয়েও অধ্যাদেশে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে।