জনতা ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, সাইফুল আলম ও পরিবারের সদস্যদের আসামি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহন, december ২১, ২০২৫

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সোয়া ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ, তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ ৯৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনটি মামলায় এস আলম গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মামলাগুলোতে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল মিল এবং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ঋণ নিয়ে মোট ৬ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রথম মামলায় এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২ হাজার ৩ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কালে এ অনিয়ম সংঘটিত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদ, পরিচালক হিসেবে তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং জনতা ব্যাংকের ২৮ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ২ হাজার ২৯৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের ঘটনা উল্লেখ করে এ মামলায় সাইফুল আলম মাসুদসহ জনতা ব্যাংকের ২৫ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩২ জন।

তৃতীয় মামলাটি করা হয়েছে এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণ থেকে ১ হাজার ৯৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে। ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালের ঘটনা উল্লেখ করে এ মামলায় সাইফুল আলম মাসুদ, তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য এবং জনতা ব্যাংকের ২৬ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Nagad

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর এস আলম গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩ হাজার ৮৫ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক দুটি মামলা দায়ের করে। পাশাপাশি গত ৯ জুলাই সাইফুল আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।

এ ছাড়া আদালতের আদেশে বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক, ১৮০ কোটি টাকার জমি এবং রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয় এবং গত বছরের ৭ অক্টোবর সাইফুল আলম, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ ১৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।