প্রথম আলো–ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্, december ২২, ২০২৫

জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা ও মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে।

পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রাথমিকভাবে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য রোববার (২১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র এবং বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

শেরপুরের বাসিন্দা রাকিব হোসেনকে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি থেকে ঘটনার ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট এবং উসকানিমূলক লেখা প্রকাশের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ঘটনাস্থল থেকে লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন, তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন। ওই টাকা দিয়ে কেনা একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Nagad

এদিকে, কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং শনাক্ত হওয়া অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।