শিলিগুড়ি-আগরতলায় বাংলাদেশের ভিসা সেবা বন্ধ, কলকাতায় একাধিক বিক্ষোভ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহন, december ২২, ২০২৫

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ও ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেবাকেন্দ্র ঘেরাও করা হয়েছে। এর জেরে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) শিলিগুড়ির ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি ও কলকাতার কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একই দিন ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী মিশনেও কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকবে। এছাড়া আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের ভিসা কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সোমবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও শিলিগুড়ি মহানগর সংগঠনের সদস্যরা বাঘাযতীন পার্কে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারের সামনে অবস্থান নেন।

মিছিলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, দিপু দাস হত্যার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। পরে ভিসা অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ভিসা অফিসে প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিবাদস্বরূপ ভিসা অফিস বন্ধ রাখার আবেদন জানান।

বিক্ষোভ চলাকালে বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত ফ্লেক্স এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। এ সময় ভিসা সেন্টার বন্ধ রাখার হুমকিও দেওয়া হয়।

Nagad

একই দিন কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে তিন দফায় বিক্ষোভ হয়। প্রথমে ‘নাস্তিক মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

এ বিষয়ে উপ-হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, আগেই পুলিশকে নোট ভার্বাল পাঠানো হয়েছিল। ফলে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। ভারতীয় সময় দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা উপ-হাইকমিশন চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা চত্বর থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থান নিয়ে আধা ঘণ্টা বিক্ষোভ করে স্মারকলিপি দিয়ে চলে যায়।

এরপর জাতীয় কংগ্রেসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের ক্ষোভ জানান।

সবশেষে বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘হিন্দু সনাতনীরা’ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হিন্দু সাধুরাও ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা কলকাতার বেকবাগান মোড়ে সড়ক অবরোধ করা হয় এবং ড. ইউনূসের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া হয়।

দিল্লি ও অন্যান্য স্থানে সেবা স্থগিত
দিপু দাস হত্যার প্রতিবাদে রোববারও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়। একই দাবিতে দিল্লি ও ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে সব ধরনের কনসুলার সেবা ও ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।