রমজানের আগেই চিনির বাজারে অস্থিরতা, খাতুনগঞ্জে বাড়ছে পাইকারি দাম
চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী নানামুখী চাপে দীর্ঘদিন ধরে দাম কমলেও চলতি সপ্তাহে হঠাৎ করেই চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বাড়তে শুরু করেছে চিনির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারটিতে প্রতিমণ চিনির দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। এতে রমজান সামনে রেখে ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাদা চিনি আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিশোধিত চিনির ওপর চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে ভোক্তা সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চিনির মিলার ও আমদানিকারক সিন্ডিকেট। রোজাকে সামনে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাতুনগঞ্জের ডিও ব্যবসায়ী শাহজাহান বাহাদুর বলেন, ‘গত এক বছরে চিনির দাম লাগাতার কমেছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেশি থাকায় মিলাররা বড় অঙ্কের লোকসান গুনেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে সেই লোকসান পোষাতে দাম কিছুটা বাড়ছে।’
ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাতুনগঞ্জে চিনির পাইকারি দাম ছিল মণপ্রতি ৪ হাজার ৪৪০ টাকা। পরে নভেম্বরের শেষ দিকে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২১০ টাকায়। তবে চলতি সপ্তাহে দাম আবার বেড়ে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মণপ্রতি ৩ হাজার ৪১০ টাকায় পৌঁছেছে। যদিও এখনো খুচরা বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর। রাষ্ট্রীয় চিনিকলগুলো থেকে আসে মাত্র ৩০ হাজার টনের মতো। ব্যক্তিখাতের কয়েকটি বড় শিল্পগ্রুপ—সিটি, মেঘনা, এস আলম, আবদুল মোনেম ও দেশবন্ধু সুগার মিল অপরিশোধিত (‘র’) চিনি আমদানি করে তা পরিশোধনের মাধ্যমে বাজারজাত করে থাকে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘গত বছর সরকার সাদা চিনি আমদানির সুযোগ দেওয়ায় বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল। এখন সেই আমদানি বন্ধ থাকায় পরিশোধিত চিনির দাম আবার বাড়ছে।’
এদিকে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, ‘রমজান সামনে এলেই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রশাসন এখন নির্বাচনি কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগেই অসাধু সিন্ডিকেটগুলো বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে।’
রমজান সামনে রেখে চিনির বাজারে এমন অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সরকারি নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: জাগো নিউজ

