‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে নারীকে ধর্ষণের হুমকি, চালক-হেলপারসহ দুইজন আটক

গাজীপুর সংবাদদাতা:গাজীপুর সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহন, জানুয়রী ৩, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে এক নারীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চালকের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক যাত্রীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পশ্চিম টঙ্গী থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চালক ও তার সহকারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান।

তিনি জানান, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত চালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। অভিযুক্ত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি উত্তরা বিএনএস এলাকা থেকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেটের উদ্দেশ্যে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে যাত্রা শুরু করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নাঈম ইসলামের স্ত্রী। তিনি চালকের পাশের সংরক্ষিত নারী আসনে বসেছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী নারী নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্য পরিচয় দেওয়ার পর চালক উসকানিমূলক ও অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাসটি সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পৌঁছালে নাঈম ইসলাম মোবাইলে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চালক তাকে বাসের জানালার সঙ্গে ধাক্কা দেন এবং তার মোবাইল ফোন ফেলে দেন।

এ সময় ভুক্তভোগী নারী বাসটি থামাতে বললেও চালক তা অস্বীকার করেন। তিনি চিৎকার শুরু করলে চালক বাসের ভেতরেই তাকে ধর্ষণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

Nagad

ঘটনার প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে বাসে থাকা নূরনবী নামের এক যাত্রীর সঙ্গে চালক, তার সহকারী ও অন্যদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে হোসেন মার্কেট এলাকায় বাসটি থামলে যাত্রীদের সহায়তায় ওই নারীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়।

তবে বাস থেকে সবাই নেমে যাওয়ার পর নূরনবীকে একা পেয়ে চালক ও তার সহকারীসহ তিনজন লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি আটক করা হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে।

এ ঘটনায় ধর্ষণের হুমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পশ্চিম টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেন মো. নাঈম ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাস মালিক সমিতির ১৫-২০ জন থানায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেন।

এছাড়া তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত চালক মাত্র চার দিন আগে উত্তরা পূর্ব থানা থেকে একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।