বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১১:৫৫ অপরাহন, জানুয়রী ৬, ২০২৬

বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাওয়ার ব্যয় বহনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন এবং অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর যুক্তিতে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা হিতে বিপরীত হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক, কারণ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এমন সুযোগ দেওয়া হলে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় বিদেশি পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালন করলে তাদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে। কেননা পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কার্যক্রম মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত থাকে। সে ক্ষেত্রে কমিশনের অর্থায়নে সেই মূল্যায়ন কতটা স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সাল বা তার আগের নির্বাচনগুলোতে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আত্মজিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন বলে মনে করে টিআইবি।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্বাচন কমিশন বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দায়িত্ব পালন করা নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের মানদণ্ডে কতটা গ্রহণযোগ্য—তা সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদেরও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

Nagad

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতের সরকারের সময়ে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তা উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের মধ্যে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার যে প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বিতর্কিত করার কোনো পথে যেন ইসি না এগোয়-এ আহ্বানও জানান তিনি।