দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ দিলে রাজপথে নামবে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কেউ সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারান। ‘এরপরও আমরা দেখছি, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন। নির্বাচন কমিশনের কিছু ব্যাখ্যা ও ফাঁকফোকরের মাধ্যমে তাদের বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত,’-বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যেই এ ধরনের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। ‘যারা নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক বলে দাবি করে, তাদের কাজকর্মে আমরা সংবিধান ও আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান দেখতে পাচ্ছি। লুটেরা শ্রেণি বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়ে আবার দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছে-এটা মেনে নেওয়া হবে না,’ বলেন তিনি।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে জনপ্রতিনিধি হতে চাইলে এককভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।’ নির্বাচন কমিশন যদি ব্যাখ্যা দিয়ে বা এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে প্রার্থিতা বৈধ করার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিরোধ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল যদি কোনো ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিক যেকোনো শর্তে নির্বাচনের যোগ্যতা পায়, তাহলে আমরা রাজপথে নামবো এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালাবো। এই নির্বাচন কমিশনকে দায়সারা ও একপাক্ষিক নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে না।’
ঋণখেলাপিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একেকজন তিন-তিনটি ব্যাংকের ঋণখেলাপি—১৯০ কোটি, ২০০ কোটি, এমনকি ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। এই টাকা জনগণের। টাকা না দিয়েই তারা সংসদে যেতে চায়—এটা বন্ধ করতেই হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, এনসিপির ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে একজন ছাড়া সবাই বৈধতা পেয়েছেন। ‘এটাই নতুন বন্দোবস্তের প্রমাণ। এখানেই এনসিপি তথাকথিত লুটেরা রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলাদা,’ বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দল হিসেবে আমরা কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী সিস্টেমের পুনরাবৃত্তি হতে দেবো না। প্রয়োজনে রাজপথে, আসনে আসনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

