ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু বৃহস্পতিবার
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি)। ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় এই রুটে যাতায়াতে সময় কমার পাশাপাশি যাত্রীদের সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ সাশ্রয় হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
আকাশপথে ঢাকা-করাচি-ঢাকা নন-স্টপ ফ্লাইট পুনরায় চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্থবির যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে।
দীর্ঘদিন পর পাকিস্তান রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সাধারণ যাত্রীরা। তারা জানান, পাকিস্তান ভ্রমণের আগ্রহ থাকলেও সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় এতদিন ভ্রমণ জটিল ছিল। নতুন ফ্লাইট চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।
ঢাকা থেকে করাচি ১ হাজার ৪৭১ মাইল দূরত্বে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হবে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ। আপাতত প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতি ও শনিবার এই রুটে ফ্লাইট চলবে। প্রথম ফ্লাইটেই যাত্রীদের প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, প্রথম ফ্লাইটের সব আসন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রীরা তিন ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পাকিস্তান প্রতিবছর পর্যটন খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ঢাকা-করাচি রুটটি পর্যটনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক ও এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, সরাসরি বিমান যোগাযোগ দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো পরিবহনেও এই রুটে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতদিন যাত্রীদের দুবাই, দোহা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ট্রানজিট হাব ব্যবহার করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। নতুন ব্যবস্থায় রাউন্ড ট্রিপে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হয়ে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

