শরীয়তপুরে বাড়ছে হাম, আক্রান্ত হচ্ছেন বড়রাও; দুই শিশুর মৃত্যু

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহন, মার্চ ৩১, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুসহ তরুণরা ভর্তি হচ্ছেন। এ সময় ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়।

মৃত শিশুদের একজন জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে তাসিফা এবং অন্যজন ভেদরগঞ্জ উপজেলার বালারহাট এলাকার ইসহাক মিয়ার মেয়ে রুকাইয়া। তারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

বর্তমানে সদর হাসপাতালে শিশুসহ তিনজন ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে জাজিরার কাজীরহাট এলাকার দুই বছর বয়সী শিশু ওসমান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরে জ্বর, কাশি, পাতলা পায়খানা ও র‍্যাশ দেখা গেছে।

শুধু শিশু নয়, তরুণদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই তরুণ—ইমন মুন্সি ও শাহীন কাজী—হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা জ্বর, কাশি ও ত্বকে র‍্যাশ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমান বলেন, হামের কিছু উপসর্গ রোগটিকে জটিল করে তোলে। আক্রান্তদের পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

Nagad

সদর উপজেলার আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার জানান, হাসপাতালে আক্রান্তদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

হামের সংক্রমণ বাড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। দ্রুত টিকাদান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিকল্প নেই।