ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ‘এথিস্ট ইন বাংলাদেশ’- এর বিরুদ্ধে মামলা: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন বিতর্ক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহন, নভম্বর ১৭, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্ম অবমাননা ও মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে  একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রকাশক ও একাধিক লেখকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক পরিসরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রশ্নকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
গত ১৩ নভেম্বর রাজবাড়ীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের  আমলি শাখা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ (সংশোধিত) আইনের ২৯৫, ২৯৫ক ও ৩৪ ধারায় মামলাটি গ্রহণ করেন। মামলাটি দায়ের করেন মোঃ আব্দুল হান্নান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী ‘এথিস্ট ইন বাংলাদেশ’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য, লেখা ও মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রকাশনা মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
মামলা গ্রহণের পর আদালত কালীখুলী থানার অফিসার ইন চার্জকে তদন্তপূর্বক প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলাটির নম্বর সি.আর.-৩৬৮/২০২৫। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করেছেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, গাজী আফতাবুন নেসা রিতি, সমীর হালদার, নুরুল আমিন, মোঃ তানভির হোসেন, সাব্বির আহমেদ, মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ মিজানুর রাহমান, বুরহান উদ্দীন, রাজীব সাহা, মোসাম্মাত নাসরিন সুলতানা, মুনায়েম আহমেদ এবং গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ডিজিটাল প্রকাশনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ঘিরে অতীতেও একাধিক মামলা ও বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রায়ই অভিযোগ করে থাকে যে, ধর্ম অবমাননা সম্পর্কিত আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিধান অনেক সময় ভিন্নমত বা সমালোচনামূলক মতপ্রকাশ দমনে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ধর্মভিত্তিক সংগঠন ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো দাবি করে, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য এ ধরনের আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তবে বর্তমান মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘এথিস্ট ইন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।