আধুনিকায়ন হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, বছরে তেল শোধন হবে ৪৫ লাখ টন

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিশোধিত তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান এই তেল শোধনাগারের পরিশোধন সক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে।

এ প্রকল্পে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন দেবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও আইডিবির মধ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইডিবির পক্ষে কান্ট্রি প্রোগ্রামসের ডিরেক্টর জেনারেল আনাসে আইসামি স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।

ইআরডি জানিয়েছে, প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাস্তবায়ন করবে। এ অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যে চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

আইডিবির সর্বোচ্চ বিনিয়োগ

Nagad

বাংলাদেশে কোনো একক প্রকল্পে আইডিবির এটিই সর্বোচ্চ বিনিয়োগ বলে জানিয়েছে ইআরডি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে।

সরকার আশা করছে, এতে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা তিনগুণ বাড়লে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতাও কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইডিবির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী আইডিবি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশকে অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতের অর্থায়ন ও রপ্তানি ঋণ গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।

অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী সহজ শর্তে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।