ইরানে ফের মার্কিন হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আইআরজিসির

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৬, ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় কেশম দ্বীপ ও উপকূলীয় গোরুক এলাকার একাধিক রাডার স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ড্রোন আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। এরপর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল। ভবিষ্যতে বড় ধরনের হামলা প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তারা ‘শত্রুপক্ষের ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।

এদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির আশপাশে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

Nagad

এর আগে ইরানের নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার দাবি করেছিল। তাদের অভিযোগ, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হয়রানি করছিল। তবে সেন্টকম ইরানের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনা এখনো সফল হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের অবসানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা আবারও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।