যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে ইরানের সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে এসব মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এতে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তরসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, প্রতিশোধমূলক এই অভিযানে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন স্থাপনাগুলোতে চালানো এই হামলা পুরোপুরি সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের এই শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।
আইআরজিসি আরও বলেছে, এর আগে দিনটির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে আকস্মিক হামলা চালানোর পরই এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাবই হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করা। তারা অযাচিতভাবে ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর একটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের জবাব হিসেবে এই হামলার দাবি করা হলেও তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানায়, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের সামুদ্রিক নৌযানের তদারকির আইনি দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
আইআরজিসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এখন থেকে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো নৌযানের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতে যেকোনো অজুহাতে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালালে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর, ব্যাপক ও বিধ্বংসী।

