জাপানি মোটরসাইকেল কি জাপা‌নেই তৈ‌রি হয়?

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২৬

বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে-জাপানি ব্র্যান্ডের বাইক মানেই সর্বোচ্চ মানের এবং সেটি জাপানেই তৈরি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক মোটরসাইকেল শিল্পের বাস্তবতা বলছে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি জাপানি ব্র্যান্ড হলেও তাদের সব মোটরসাইকেল জাপানে উৎপাদিত হয় না। উৎপাদন ব্যয় কমানো, স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সহজ করতে এসব প্রতিষ্ঠান ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে।

ফলে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া জাপানি ব্র্যান্ডের অধিকাংশ মোটরসাইকেলই এসব দেশের কারখানায় উৎপাদিত অথবা স্থানীয়ভাবে সংযোজিত (অ্যাসেম্বলড) হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপনে প্রায়ই ‘জাপানি প্রযুক্তি’ বা ‘জাপানি ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়। এতে অনেক ক্রেতার মনে ধারণা জন্মায় যে মোটরসাইকেলটি জাপানে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে ‘জাপানি প্রযুক্তি’ বলতে মূলত নকশা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে বোঝানো হয়; এটি পণ্যটির উৎপাদনস্থল নির্দেশ করে না।

অটোমেবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ডের পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে উৎপাদনকারী দেশ, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, পারফরম্যান্স, খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

তাই সচেতন ক্রেতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্র্যান্ডের নাম নয়, বরং মোটরসাইকেলের প্রকৃত মান, নির্ভরযোগ্যতা এবং ব্যবহার-উপযোগিতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

Nagad