খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে মানুষের ঢল, তিন দিনে সমাগম হতে পারে ২ কোটি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে নেমেছে মানুষের ঢল। শনিবার ভোর থেকেই ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায় জানানোর অপেক্ষা করেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিনে বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ও প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানান। শনিবার ও রোববার সাধারণ মানুষের জন্য শোকানুষ্ঠান উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে জড়ো হতে থাকেন। শনিবার সকাল ছয়টায় মূল ফটক খুলে দেওয়া হলে জনস্রোত মোসাল্লা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোমায়ি হামেদি এএফপিকে বলেন, “আমরা আমাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করাও আমাদের কাছে কষ্টকর নয়।”

বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আকাশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় শোকসমাবেশ হতে যাচ্ছে। সে সময় তার জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি প্রকাশ্য শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Nagad

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার ও মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ ইরানের কোম শহরে নেওয়া হবে। বুধবার মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়ার পর কারবালায় শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। মাশহাদই খামেনির জন্মস্থান।

এর আগে মার্চে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলার পরই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।

শুক্রবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে গিয়ে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন। ভারতের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি চীন, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার, হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।