২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ যানবাহন ইলেকট্রিকে রূপান্তর : সড়ক মন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সড়ক পরিবহণ খাতে ব্যবহৃত যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশকে ইলেকট্রিক মোটরযানে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে গণপরিবহণকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তর, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন-৩৩ এর সরকারি দলের সদস্য শওকত আরা আক্তারের জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, যানবাহন থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের পরিবর্তে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী জানান, ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহণ খাত থেকে নিঃশর্তভাবে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক মোটরযানে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এ লক্ষ্যে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক মোটরযানের নিবন্ধন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ কমাতে সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

আলোচনায় সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গ টেনে সড়ক মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক সংসদ সদস্য সেতুর টোল মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। তবে, টোল আদায় একটি রাজস্ব-সংক্রান্ত বিষয় এবং এটি অর্থ বিভাগের আওতাভুক্ত। তাই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এককভাবে কোনো সেতুর টোল প্রত্যাহার করতে পারে না।

Nagad

শেখ রবিউল আলম বলেন, ছোট সেতুর ক্ষেত্রে টোলে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে, কোনো সংসদ সদস্যের সুপারিশে বা অনুরোধে টোল আদায় বন্ধ করার সুযোগ খুবই সীমিত।

রেলস্টেশনের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আন্তনগর ট্রেনের স্টপেজ বাড়ানোর দাবি থাকলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সব জায়গায় ট্রেন থামানো হলে আন্তনগর ট্রেনের বৈশিষ্ট্য নষ্ট হবে এবং দ্রুত যাতায়াতের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।