মার্জিন ঋণ নীতিমালায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ, বাড়তে পারে ঋণসীমা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাকে আরও বিনিয়োগবান্ধব ও কার্যকর করতে বিদ্যমান বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন প্রস্তাবে মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ শিথিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০২০তম কমিশন সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশোধিত খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিশন জানিয়েছে, জনমত যাচাইয়ের জন্য শিগগিরই খসড়াটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নিট সম্পদের তিন গুণ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মার্জিন কলের শর্তও কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রাহকের ইকুইটি ৭৫ শতাংশে নেমে এলে মার্জিন কল দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবে এ সীমা ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ইকুইটি ৫০ শতাংশে নেমে গেলে আগের মতোই ফোর্স সেল কার্যকর থাকবে।

এ ছাড়া বি ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ শতাংশ সীমাবদ্ধতা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এ ও বি—উভয় ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণের সুবিধা পাওয়া যাবে।

মার্জিনযোগ্য শেয়ার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই (প্রাইস-টু-আর্নিং) রেশিওর পরিবর্তে পিবি (প্রাইস-টু-বুক) রেশিও ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পিবি রেশিও তিনের বেশি হলে এবং বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে একের বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ার মার্জিনযোগ্য থাকবে না।

সংশোধিত খসড়ায় ছাত্র ও গৃহিণীদের মার্জিন ঋণ গ্রহণে থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। ফলে স্টক ব্রোকাররা নিজেদের নীতিমালার ভিত্তিতে তাদেরও মার্জিন ঋণ সুবিধা দিতে পারবেন।

Nagad

এছাড়া পিই রেশিও গণনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে সর্বশেষ চার প্রান্তিক বা ট্রেইলিং ১২ মাসের ইপিএসের ভিত্তিতে পিই রেশিও নির্ধারণ করা হলেও নতুন প্রস্তাবে সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ইপিএসের ভিত্তিতে এটি হিসাব করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের সামগ্রিক পিই রেশিও, ন্যূনতম বিনিয়োগ এবং ফ্রি-ফ্লোটসংক্রান্ত কয়েকটি শর্ত বাতিলেরও প্রস্তাব রয়েছে।

তবে স্টক এক্সচেঞ্জের নির্ধারিত স্মল ক্যাপ কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণের সুবিধা বহাল থাকবে না। এছাড়া মার্জিন চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে পুনর্নবায়নের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে কোনো পক্ষ বাতিল না করা পর্যন্ত চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বর্তমান মার্জিন বিধিমালা বাস্তবায়নের পর বাজারে কিছু ব্যবহারিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে কমিশন সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, সংশোধিত খসড়াটি শিগগিরই জনমতের জন্য প্রকাশ করা হবে।