আদালত অবমাননা: শাহজাদপুর ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্, জুলই ২৮, ২০২৬

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন। সংগৃহীত ছবি

আদালতের নির্দেশ অমান্য ও আদালত অবমাননার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) শাহজাদপুর চৌকি আদালতের বিচারক শানু আকন্দ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের একটি বিচারাধীন মামলায় গত ২৪ মে আদালত ইউএনও সাবরিনা শারমিনকে বাদীর ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ না করার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে গত ২১ জুন তিনি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন। পরে এ ঘটনায় বাদীপক্ষ আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে।

মামলার নোটিশের জবাবে ইউএনও আদালত, বিচারক এবং আদালতের আদেশ সম্পর্কে আপত্তিকর, অবমাননাকর ও আক্রোশমূলক মন্তব্য করে লিখিত আপত্তি দাখিল করেন বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বিচারককে মামলার বাদীপক্ষ হিসেবে আখ্যায়িত করা, আদালতের আদেশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যোগসাজশমূলক বলে মন্তব্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

পরে আদালত তার কাছে এসব বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে ইউএনও সাবরিনা শারমিন পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিপন্থী আচরণ করেছেন। আদালত, বিচারক এবং আদালতের আইনানুগ আদেশ সম্পর্কে তার আপত্তিকর ও অশ্রদ্ধাশীল মনোভাব আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ধরনের আচরণ নিরুৎসাহিত করতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Nagad

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর চৌকি আদালতের নিরাপত্তার জন্য নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুন মাসে ইউএনও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।

এ বিষয়ে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি এখনও হাতে পাইনি। তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।’ সূত্র: জাগো নিউজ