ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত ও বৈষম্য দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর : মির্জা ফখরুল

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহন, জুলই ২৮, ২০২৬

বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজের বৈষম্য দূর করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে এক আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে ঘরের বরাদ্দপত্র, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে তাদের জমিজমা দখল হয়ে যায়। এই বাস্তবতা ও তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণই নয়, সমতলের সব সম্প্রদায়কে সমান মর্যাদায় এগিয়ে নিতে চায় সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জাতি-গোত্রের বিভেদ দূর করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসা।

এর আগে দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানকে আমরা একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই। শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এটি যে সমাজ ও জীবনের জন্য একটি ক্ষতিকর বস্তু—সেই ভীতি ও ভয়াবহতার বার্তা প্রচার করাই আমাদের মূল কাজ। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তার ইতিবাচক ফল দেশবাসী অবশ্যই পাবে।

Nagad

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ জনের হাতে বসতঘরের বরাদ্দপত্র, ৪৯ জনকে বাইসাইকেল, ৩৩ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৩২৬ জন শিক্ষার্থীকে মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়। সব মিলিয়ে ৪১৮ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকা মূল্যের উপহার ও অনুদান বিতরণ করা হয়।