দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে, ৪ আগস্ট সইয়ের সম্ভাবনা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহন, জুলই ২৯, ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ আগস্ট দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি সই হতে পারে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সিইপিএ চুক্তির চূড়ান্ত দফার আলোচনা করতে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদমন্ত্রী কিম জং-ক্বানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে।

এর আগে মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে টেলিফোনে সিইপিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জং-ক্বান। দুই দেশের মধ্যে হওয়া এ আলোচনা ইতিবাচক ছিল বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে পারে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এছাড়া তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নির্দিষ্ট পণ্যে রুলস অব অরিজিন সুবিধা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা ও শিক্ষা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহায়তা, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

Nagad

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির আলোচ্য ১২টি বিষয়ের মধ্যে চারটিতে দুই দেশ ইতোমধ্যে একমত হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও সিরামিক পণ্য। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয় লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক, রাসায়নিক এবং কাগজজাত পণ্য।