সাগরে লঘুচাপ, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চল ও এর কাছাকাছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, সারাদেশেই মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এর আগে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে তখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়। অন্তত ৯টি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে পাঁচ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল।
এদিকে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির প্রবণতা কম থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও ভ্যাপসা ভাব বেড়েছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। এর আগের দিন তিনটি এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি বাড়ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমতে পারে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে জনজীবন ও নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

