একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ২২ বছর
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মতিঝিল থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে প্রথম অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন এবং হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হলে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন আসামির মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম বাদ পড়ে।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে সবাইকে খালাস দেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদনও খারিজ করেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলায় দুর্বল ও শোনা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচারিক আদালত রায় দিয়েছিলেন। পুনঃতদন্তের আদেশ এবং সম্পূরক অভিযোগপত্রের আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিল। তবে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত বিচারে রায়ের ওই অংশটি বাদ দেয়।
ফলে ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পরও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবার প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

