হাজারের বেশি উদ্ভাবন নিয়ে শুরু হচ্ছে ইনোভেশন ফেয়ার, ১২ সেপ্টেম্বর শুরু
উদ্ভাবনের সঙ্গে নীতি সহায়তা, শিল্পখাত, বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগের সংযোগ ঘটাতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। মেলায় ১০০ জনের বেশি ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করবেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবনকে শুধু প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর বাস্তব প্রয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। মেলা বাংলাদেশের উদ্ভাবনগুলোর সঙ্গে নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ, শিল্পখাত ও বাজারের সুযোগের সংযোগ ঘটাতে সহায়তা করবে।
আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর নভোথিয়েটারে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মেলায় উদ্ভাবক, গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, বহুজাতিক কোম্পানি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি এনজিও, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ধারণা বিকাশকেন্দ্র, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। এতে ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানও অংশ নেবে।
উদ্ভাবন প্রদর্শনীর পাশাপাশি মেলায় ছয়টি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন, ছয়টি সমান্তরাল অধিবেশন ও পাঁচটি গোলটেবিল বৈঠকসহ তিন দিনে মোট ১৭টি অধিবেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এসব আলোচনায় নীতিনির্ধারক, গবেষক, চিন্তাকেন্দ্র, শিল্পনেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও উদ্ভাবকেরা অংশ নেবেন।
মন্ত্রী বলেন, এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক উদ্ভাবনগুলো চিহ্নিত করা হবে। সফল মডেলগুলো পরীক্ষার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ধারণাগুলো কীভাবে আরও সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
১৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের উদ্ভাবকেরা মেলায় অংশ নেবেন। প্রদর্শিত উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে একটি ‘উদ্ভাবনী কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উদ্ভাবকদের নীতি সহায়তা, অর্থায়ন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, শিল্প অংশীদারত্ব ও বাজারের সুযোগ পেতে সহায়তা করা হবে।
উদ্ভাবনের জন্য নীতিগত পরিবেশ শক্তিশালী করতে নীতি অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর অংশ নিচ্ছে। কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে ইউএনডিপি এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানো’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হবে। অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার আয়োজন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বাস্তবায়ন করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে রয়েছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

