সৌদির অনুরোধে সাড়া দেননি ট্রাম্প, বাব এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণে হুতিরা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন বা পারিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তারা। এর মধ্য দিয়ে কৌশলগত এই জলপথের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলো।

ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে সরে যাওয়ার পর হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌকা সেখানে পৌঁছায়। এরপর দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়েমেনের ওই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘হুথিরা বাব এল-মান্দেব এলাকা ও প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’

ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির পাহাড়ি এলাকা থেকে বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর নজরদারি চালাতে পারবে হুতিরা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হুতি যোদ্ধারা বাব এল-মান্দেবের উপকূলজুড়েও অবস্থান নিয়েছে। সামরিক যান নিয়ে তাদের এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।

বাব এল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রণালি। এই জলপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশ করে সুয়েজ খালের দিকে যায়। তেল পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রণালিটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রণালির আশপাশে চারটি কৌশলগত দ্বীপ রয়েছে—জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতিরা। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদেরও অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা।

Nagad

সূত্রের দাবি, হানিশে থাকা দুই হাজারের বেশি সেনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের আত্মসমর্পণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানান, অবরুদ্ধ সেনারা খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে বিমান পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে বাব এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে হুতিদের পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম এল-আসাদ দাবি করেছেন, লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেবে নৌ চলাচল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদির অনুরোধে ট্রাম্পের ‘না’

ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, প্রথম ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ পরিস্থিতির অবনতির কথা ট্রাম্পকে জানান। কয়েক ঘণ্টা পর আবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেন তিনি।

তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে রাজি হননি বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের বিষয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কিত তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। সৌদিতে অবস্থানরত দুই শতাধিক মার্কিন সেনা এরই মধ্যে রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক সহায়তা’ দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম দফার ফোনালাপের সময় হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে শহরটির নিয়ন্ত্রণও নেয় তারা। এর এক দিন পর শুক্রবার মায়ুন দ্বীপ দখলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার দাবি করল হুতিরা।