জমির ভাগ পেতে হামলার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন শাহরিয়া মাহমুদ। ৩৫ কাঠা জমি উদ্ধার করে দিতে পারলে ওই জমির একটি অংশের মালিকানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে তিনি এ দায়িত্ব নেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

হামলা সফল করতে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের স্থানীয় নেতা শাহ আলম অনিকসহ কয়েকজনের মাধ্যমে ভাসানটেক ও পল্লবীর বস্তি থেকে নিম্নআয়ের মানুষ ভাড়া করা হয় বলেও তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি। পরে শনিবার রাতে তারা নিউগিনি আবাসন প্রকল্প এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সোমবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।

এর আগে মুন্না, মামুন ও আসলামকে রোববার এবং শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুব্রত দেবনাথ। আদালত বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পাঁচ আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। খবর সমকালের।

জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ

যে জমিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজনের ৩৫ কাঠা জমি নিউগিনি প্রকল্পের ভেতরে রয়েছে। জমিটি খালি পড়ে আছে এবং প্রকল্পের ভেতরে থাকায় সেখানে যাওয়ার সরাসরি রাস্তা নেই। নিউগিনি প্রপার্টিজ ওই অংশে গেট দিয়ে রেখেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

Nagad

তবে নিউগিনি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষের দাবি, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ২৩ কাঠা জমি ছিল। এর মধ্যে ১৫ কাঠা কয়েক বছর আগে তিনি নিউগিনির কাছে বিক্রি করেন। বাকি আট কাঠা তার রয়েছে। এর পাশে অন্যদের আরও ১২ কাঠা জমি রয়েছে। এসব জমির মালিকদের সঙ্গেও রাস্তা নিয়ে নিউগিনি কর্তৃপক্ষের বিরোধ রয়েছে বলে দাবি তাদের।

নিউগিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিক্রি করে দেওয়া ১৫ কাঠা জমিও গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জমির দখল ও যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে এ বিরোধ তৈরি হয়েছে।

তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদের পূর্বপরিচয় রয়েছে। সেই সূত্রে জমি উদ্ধার এবং জমিতে যাওয়ার ফটক ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া।

যেভাবে হামলা

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে দুই শতাধিক লোক নিউগিনি প্রপার্টিজের দুই পাশের ফটক দিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করে। এর আগে ফটকসংলগ্ন বাইরের অংশের দুটি টিনের স্থাপনায় হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।

চার নম্বর ফটক দিয়ে ঢোকার পর বাম পাশে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও এবং আবাসন প্রকল্পের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনেও হামলা করা হয়। নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের করা মামলায় লুটপাট, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীদের একটি দল প্রকল্প এলাকায় ঢুকে গুলি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

শাহরিয়াকে প্রধান আসামি করে মামলা

হামলার ঘটনায় রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়। শাহরিয়াকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউগিনি প্রপার্টিজের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে এবং শাহরিয়াকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মামলার অপর আসামিদের মধ্যে আবুল কাশেম ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন এবং বাবুল হোসেন ও মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।