টমেটো ২০০, শিম ১৬০ টাকা কেজি, ডিম-পেঁপে-মিষ্টি কুমড়ায় স্বস্তি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম চড়া। শিম, ফুলকপি, মুলা ও ঢ্যাঁড়সের মতো সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে। কোথাও কোথাও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। তবে মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ডিমের বাজারে; প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর, মোহাম্মাদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখী, পটোল, মুলা ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ১০০ টাকা। আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। আর টমেটো বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে। প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। লাউয়ের আকারভেদে প্রতি পিসের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

বাজারে সবজি কিনতে আসা রবিউল আলম বলেন, টমেটো প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং শিম ১৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন।

মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত

Nagad

সবজির বাজারে চড়া দাম থাকলেও মুরগি ও গরুর মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম রয়েছে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে। শুক্রবার তিনি প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এদিকে, ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

মাছের বাজারেও বড় পরিবর্তন নেই

রাজধানীর মাছের বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

এ ছাড়া চিংড়ি প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাইন মাছের কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

বাজারে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হতে পারে। মাছের আকার এবং জীবিত না মৃত—এসবের ওপরও দাম নির্ভর করছে। বাজারভেদে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আজাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। শুক্রবারে মাছের দাম কিছুটা বেশি থাকে বলেও জানান তিনি।